কৃপণ

Translated from Ancient Greek by ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (Ishwar Chandra Vidyasagar)

কথামালা

এক কৃপণের কিছু সম্পত্তি ছিল। সে সর্ব্বদা এই ভাবনা করিত, পাছে চোরে ও দস্যুতে সন্ধান পাইয়া অপহরণ করে। অবশেষে, অনেক ভাবিয়া চিন্তিয়া, সে সর্ব্বস্ব বিক্রয় করিল, এবং এক তাল সোনা কিনিয়া, মাটিতে পুতিয়া রাখিল। তদবধি প্রতিদিন অবাধে, সে, এক এক বার, সেই স্থানে গিয়া দেখিয়া আইসে, কেহ সন্ধান পাইয়া লইয়া গিয়াছে কি না।

কৃপণ প্রত্যহ এইরূপ করাতে, তাহার ভৃত্যের মনে এই সন্দেহ জন্মিল, হয় ত ঐ স্থানে প্রভুর গুপ্ত ধন আছে; নতুবা, উঁনি প্রতিদিন, এক এক বার, ওখানে যান কেন। পরে, এক দিন সুযোগ পাইয়া, সেই স্থান খুঁড়িয়া, সে সোনার তাল লইয়া পলায়ন করিল। পর দিন, যথাকালে, কৃপণ ঐ স্থানে গিয়া দেখিল, কে সেই স্বর্ণ লইয়া পলায়ন করিয়াছে। তখন সে, মাথা কুড়িয়া, চুল ছিঁড়িয়া, হাহাকার করিয়া, আমার সর্ব্বনাশ হইয়াছে বলিয়া, উচ্চৈঃ স্বরে রোদন করিতে লাগিল।

এক প্রতিবেশী, তাহাকে শোকে অভিভূত ও নিতান্ত কাতর দেখিয়া, কারণ জিজ্ঞাসা করিল, এবং সমস্ত অবগত হইয়া কহিল, ভাই! তুমি অকারণে শোক করিতেছ কেন? একখণ্ড প্রস্তর লইয়া ঐ স্থানে রাখিয়া দাও; মনে কর, তোমার সোনার তাল পূর্ব্বের মত পোতা আছে; কারণ যখন স্থির করিয়াছিলে, অর্থ ভোগ করিবে না, তখন এক তাল সোনা মাটিতে পোতা থাকিলেও যে ফল, আর এক খান পাথর পোতা থাকিলেও সেই ফল। অর্থের ভোগ না করিলে, অর্থ থাকা না থাকা দুই সমান।

Comments

Loading comments…