বিদ্যাপতি ও জয়দেব

বিবিধ সমালোচন

সহসা যখন বিধির আদেশে,সুধাংশু কিরণ শোভি নভোদেশেরজত ছটায় ধাইল হরষে,ভুবনময়,নর নারী কীট পতঙ্গ সহিতবসুন্ধরা ঘরে ইইল সৃজিতগ্রহ উপগ্রহ হইল শোভিতহলো উদয়।

তখন ত কাল প্রচণ্ড শাসনে,রাখিতে সকলে আপন অধীনেসব সময়॥দুরন্ত দংশন কালরে তোমার,তব হাতে কারও নাহিক নিস্তার,ছোট বড় তুমি কর না বিচার,বধ সকলে।রাজেন্দ্র মুকুট করিয়া হরণ,দুঃখ নীরে কর নিমগন,পদযুগে পরে কররে দলন,আপন বলে॥সুখের আগারে বিষাদ আনিয়াকতশত নরে যাও ভাসাইয়া,নয়নজলে।

এখন তখন করি, দিবস গোয়াঙনুদিবস দিবস করি মাসা।

মাস মাস করি বরিখ গোয়াঙনুখোয়ানু এ তনুয়াক আশা॥বরিখ বরিখ করি, সময় গোয়াঙনুখোয়াঙনু এ তনু আশে।হিমকর কিরণে নলিনী যদি জারবকি করবি মাধবি মাসে॥অঙ্কুর তপন তাপে তনু যদি জারবকি করব বারিদ মেহে।ইহ নব যৌবন বিরহে গোঙায়বকি করব সোপিয়া লেহে॥

ভনয়ে বিদ্যাপতি, ইত্যাদি।

আইল বসন্ত বিজন কাননে,অমনি তখনি সহাস্য বদনে,তরুলতা যথা বিবিধ ভূষণে,সাজায় কায়,তুমিও যেখানে কর পদার্পণ,সুখচন্দ্র তথা বিতরে কিরণ,

বিষাদ, হতাশ, জনম মতনচলিয়া যায়।তব আবির্ভাবে, ভুবন মোহিনি,মরুভূমে বহে গভীর বাহিনী,ফোটে পারিজাত আসিয়া আপনিধরণী তলে,আঁধার আকাশে হিমাংশু কিরণহাসি হাসি করে কর বিতরণ,ভাসে যেন, মরি অখিল ভূবন,সুখ সলিলে।কে বলে কেবল নন্দন কাননে,ফোটে পারিজাত? ফোটেনা এখানেদেখ চেয়ে এই সংসার কাননেফুটেছে কত!গৃহস্থের ঘরে, রাজার ভবনে,রোগীর শিয়রে, বিজন কাননে,কতশত ফুল প্রফুল্ল বদনেফোটে নিয়ত!

মানস সরসে সখি ভাসিছে মরালরেকমল কাননে।কমলিনী কোন ছলে, ডুবিয়া থাকিবে জলে,বঞ্চিয়া রমণে।

যে যাহারে ভাল বাসে, সে যাইবে তার পাশে,মদন রাজার বিধি লঙ্ঘিব কেমনে।যদি অবহেলা করি, রুষিবে নস্বর-অরি,কে সম্বরে স্মরশরে, এ তিন ভুবনে॥ওই শুন পুন বাজে মজাইয়া মনরেমুরারির বাঁশী।সুমন্দ মলর আনে, ও নিনাদ মোর কানেআমি শ্যামদাসী।জলদ গরজে যবে, ময়ূরী নাচে সে রবে,আমি কেন না কাটিব শরমের ফাশী?সৌদামিনী ঘন সনে, নাচে সদানন্দ মনেরাধিকা কেন ত্যজিবে রাধিকা বিলাসী॥

* * * *সাগর উদ্দেশে নদী ভ্রমে দেশে দেশে রেঅবিরাম গতি!গগনে উদিলে শশী, হাসি যেন পড়ে খসি,নিশি রূপবতী॥আমার প্রেম সাগর, দুয়ারে মোর নাগর,তারে ছেড়ে রব আমি? ধিক্‌ এ কুমতি!আমার সুধাংশু নিধি, আমারে দিয়াছে বিধি,বিরহ আঁধারে আমি? ধিক্‌ এ যুকতি!”

সই, কি না সে বঁধুর প্রেম।আঁখি পালটিতে নহে পরতীতেযেন দরিদ্রের হেম।

হিয়ায় হিয়ায়, লাগিবে লাগিয়ে,চন্দন না মাখে অঙ্গে।গায়ের ছায়া, রাইয়ের দোসর,সদাই ফিরয়ে সঙ্গে॥তিলে কত বেরি, মুখ নিহারয়ে,আঁচরে মোছয়ে ঘাম।কোরে থাকিতে কত দূর মানয়ে,তেঁই সদাই নয় নাম॥জাগিতে ঘুমাইতে, আন নাহি চিতেরসের পসরা কাছে।জ্ঞানদাস কহে, এমতি পীরিতি,আর কি জমতে আছে॥পুনশ্চ,সোই পীরিতি পিয়া সে জানে।যে দেখি যে শুনি, চিতে অনুমানি,নিছনি দিবে পরাণে॥মো যদি সিনান, আগিলা ঘাটে,পিছিলা ঘাটে সে নায়।মোর অঙ্গের জল পরশ লাগিয়ে,বাহু পশারিয়া রয়॥বসনে বসন লাগিবে লাগিয়েএকই রজকে দেয়।মোর নামের আধ আখর পাইলেহরিষ হইয়ে নেয়॥ছায়ায় ছায়ায় লাগিবে লাগিয়েফিরয়ে কতেক পাকে॥

আমার অঙ্গের বাতাস, যেদিকে যেদিনসেদিকে সেদিন থাকে॥মনের আকুতি বেকত করিতেকত না সন্ধান জানে।পায়ের সেবক রায় শেখরকিছু বুঝে অনুমানে॥

Comments

Loading comments…