যমুনাবতী সরস্বতী কাল যমুনার বিয়ে।যমুনা যাবেন শ্বশুরবাড়ি কাজিতলা দিয়ে।
কাজিফুল কুড়োতে পেয়ে গেলুম মালা।হাত-ঝুমঝুম পা-ঝুমঝুম সীতারামের খেলা।নাচো তো সীতারাম কাঁকাল বেঁকিয়ে।আলোচাল দেব টাপাল ভরিয়ে।আলোচাল খেতে খেতে গলা হোলো কাঠ।হেথায় তো জল নেই ত্রিপূর্ণির ঘাট।ত্রিপূর্ণির ঘাটে দুটো মাছ ভেসেছে।একটি নিলেন গুরুঠাকুর একটি নিলেন কে।তার বোনকে বিয়ে করি ওড়ফুল দিয়ে।ওড়ফুল কুড়োতে হয়ে গেল বেলা।তার বোনকে বিয়ে করি ঠিক দুক্ষুর বেলা
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদী এল বান।শিব ঠাকুরের বিয়ে হোলো তিন কন্যে দান।
এক কন্যে রাঁধেন বাড়েন, এক কন্যে খান।এক কন্যে না খেয়ে বাপের বাড়ি যান।
এপার গঙ্গা ওপার গঙ্গা মধ্যিখানে চর।তারি মধ্যে বসে আছে শিব সদাগর।শিব গেল শ্বশুরবাড়ি বসতে দিল পিঁড়ে।জলপান করিতে দিল শালিধানের চিঁড়ে।শালিধানের চিঁড়ে নয় রে, বিন্নিধানের খই।মোটা মোটা সবরি কলা, কাগমারে দই।
নোটন নোটন পায়রাগুলি ঝোঁটন রেখেছে।বড়োসাহেবের বিবিগুলি নাইতে এসেছে।দু-পারে দুই রুই কাৎলা ভেসে উঠেছে।দাদার হাতে কলম ছিল ছুঁড়ে মেরেছে।ওপারেতে দুটি মেয়ে নাইতে নেমেছে।ঝুনু ঝুনু চুলগাছটি ঝাড়তে নেগেছে।কে রেখেছে কে রেখেছে দাদা রেখেছে।আজ দাদার ঢেলা ফেলা, কাল দাদার বে।দাদা যাবে কোন্খান দে, বকুলতা দে।বকুল ফুল কুড়োতে কুড়োতে পেয়ে গেলুম মালা।রামধনুকে বাদ্দি বাজে সীতেনাথের খেলা।সীতেনাথ বলে রে ভাই চালকড়াই খাব।চালকড়াই খেতে খেতে গলা হোলো কাঠ।হেথা হোথা, জল পাব চিৎপুরের মাঠ।
চিৎপুরের মাঠেতে বালি চিকচিক করে।সোনামুখে রোদ লেগে রক্ত ফেটে পড়ে।
ওপারে জন্তি গাছটি জন্তি বড়ো ফলে।গো জন্তির মাথা খেয়ে প্রাণ কেমন করে।প্রাণ করে হাইঢাই গলা হোলো কাঠ।কতক্ষণে যাস রে ভাই হরগৌরীর মাঠ।হরগৌরীর মাঠ রে ভাই পাকা পাকা পান।পান কিনলাম, চুন কিনলাম, ননদে ভাজে খেলাম।একটি পান হারালে দাদাকে ব’লে দেলাম।দাদা দাদা ডাক ছাড়ি দাদা নাইকো বাড়ি।সুবল সুবল ডাক ছাড়ি সুবল আছে বাড়ি।আজ সুবলের অধিবাস, কাল সুবলের বিয়ে।সুবল নিয়ে যাব আমি দিগ্নগর দিয়ে।দিগ্নগরের মেয়েগুলি নাইতে বসেছে।মোটামোটা চুলগুলি গো পেতে বসেছে।চিকন চিকন চুলগুলি ঝাড়তে নেগেছে।হাতে তাদের দেবশাঁখা মেঘ নেগেছে।গলায় তাদের তক্তিমালা রক্ত ছুটেছে।পরনে তার ডুরে শাড়ি ঘুরে পড়েছে।দুই দিকে দুই কাৎলা মাছ ভেসে উঠেছে।একটি নিলেন গুরুঠাকুর একটি নিলেন টিয়ে।
টিয়ের মার বিয়ে।নাল গামছা দিয়ে।অশথের পাতা ধনে।গৌরী বেটি ক’নে।নকা বেটা বর।ঢ্যাম কুড়্কুড়্ বাদ্দি বাজে চড়কডাঙার ঘর।
আয় ঘুম আয় ঘুম বাগদিপাড়া দিয়ে।বাগদিদের ছেলে ঘুমোয় জাল মুড়ি দিয়ে।
আয় রে আর ছেলের পাল মাছ ধরতে যাই।মাছের কাঁটা পায়ে ফুটল দোলায় চেপে যাই।দোলার আছে ছ-পণ কড়ি গুনতে গুনতে যাই।এ নদীর জলটুকু টলমল করে।এ নদীর ধারে রে ভাই বালি ঝুরঝুর করে।চাঁদমুখেতে রোদ লেগেছে রক্ত ফুটে পড়ে।
দাদা গো দাদা শহরে যাও।তিন টাকা করে মাইনে পাও।দাদার গলায় তুলসীমালা।বউ বরনে চন্দ্রকলা।হেই দাদা তোমার পায়ে পড়ি।বউ এনে দাও খেলা করি।
হেই দাদা তোমার পায়ে পড়ি।বউ এনে দাও খেলা করি।
উলু উলু মাদারের ফুল।বর আসছে কত দূর।বর আসছে বাগ্নাপাড়া।বড়ো বউ গো রান্না চড়া।ছোটো বউ লো জল্কে যা।জলের মধ্যে ন্যাকাজোকা।ফুল ফুটেছে চাকা চাকা।ফুলের বরন কড়ি।ন’টে শাকের বড়ি।
আয় রে আয় টিয়ে।নায়ে ভরা দিয়ে।না’ নিয়ে গেল বোয়াল মাছে।তা দেখে দেখে ভোঁদড় নাচে।ওরে ভোঁদড় ফিরে চা।খোকার নাচন দেখে যা।
খোকা যাবে মাছ ধরতে ক্ষীরনদীর কূলে।ছিপ নিয়ে গেল কোলা বেঙে, মাছ নিয়ে গেল চিলে।খোকা ব’লে পাখিটি কোন বিলে চরে।খোকা ব’লে ডাক দিলে উড়ে এসে পড়ে।
“জাদু, এ তো বড়ো রঙ্গ, জাদু, এ তো বড়ো রঙ্গ।চার কালো দেখাতে পারো, যাব তোমার সঙ্গ।”“কাক কালো, কোকিল কালো, কালো ফিঙের বেশ।তাহার অধিক কালো কন্যে, তোমার মাথার কেশ।”
“জাদু, এ তো বড়ো রঙ্গ, জাদু, এ তো বড়ো রঙ্গ।চার ধলো দেখাতে পারো যাব তোমার সঙ্গ।”“বক ধলো, বস্ত্র ধলো, ধলো রাজহংস।তাহার অধিক ধলো কন্যে, তোমার হাতের শঙ্খ।”“জাদু, এ তো বড়ো রঙ্গ, জাদু, এ তো বড়ো রঙ্গ।চার রাঙা দেখাতে পারো, যাব তোমার সঙ্গ।”“জবা রাঙা, করবী রাঙা, রঙা কুসুমফুল।তাহার অধিক রাঙা, কন্যে, তোমার মাথার সিঁদুর।”“জাদু, এ তো বড়ো রঙ্গ, জাদু, এ তো বড়ো রঙ্গ।চর তিতো দেখাতে পারো, যাব তোমার সঙ্গ।”“নিম তিতো, নিসুন্দে তিতো, তিতো মাকাল ফল।তাহার অধিক তিতো কন্যে, বোন্-সতিনের ঘর।”“জাদু, এ তো বড়ো রঙ্গ, জাদু, এ তো বড়ো রঙ্গ।চার হিম দেখাতে পারো, যাব তোমার সঙ্গ।”“হিম জল, হিম স্থল, হিম শীতলপাটি।তাহার অধিক হিম, কন্যে, তোমার বুকের ছাতি।”
আয় আয় চাঁদ মামা টী দিয়ে যা।চাঁদের কপালে চাঁদ টী দিয়ে যা।মাছ কুটলে মুড়ো দেব,ধান ভানলে কুঁড়ো দেব,কালো গোরুর দুধ দেব,দুধ খাবার বাটি দেব,চাঁদের কপালে চাঁদ টী দিয়ে যা।
“ওপারেতে কালো রঙ,বৃষ্টি পড়ে ঝমঝম,এপারেতে লঙ্কাগাছটি রাঙা টুকটুক করে।গুণবতী ভাই আমার, মন কেমন করে।”“এ মাসটা থাক্, দিদি, কেঁদে ককিয়ে।ও মাসেতে নিয়ে যাব পালকি সাজিয়ে।”“হাড় হোলো ভাজা ভাজা, মাস হোলো দড়ি।আয় রে আয় নদীর জলে ঝাঁপ দিয়ে পড়ি।”
মেঘালোকে ভবতি সুখিনোঽপান্যথাবৃত্তিচেতঃ... ... ... কিং পুনর্দূরসংস্থে।
“গুণবতী ভাই আমার মন কেমন করে।”“হাড় হোলো ভাজা ভাজা, মাস হোলো দড়ি।আয় রে আয় নদীর জলে ঝাঁপ দিয়ে পড়ি।”—
আজ দুর্গার অধিবাস, কাল দুর্গার বিয়ে।দুর্গা যাবেন শ্বশুরবাড়ি সংসার কাঁদিয়ে।মা কাঁদেন মা কাঁদেন ধুলায় লুটায়ে।সেই যে-মা পলাকাটি দিয়েছেন গলা সাজায়ে।বাপ কাঁদেন বাপ কাঁদেন দরবারে বসিয়ে।সেই যে-রাপ টাকা দিয়েছেন সিন্দুক সাজায়ে।মাসি কাঁদেন মাসি কাঁদেন হেঁশেলে বসিয়ে।সেই যে-মাসি ভাত দিয়েছেন পাথর সাজিয়ে।পিসি কাঁদেন পিসি কাঁদেন গোয়ালে বসিয়ে।সেই যে-পিসি দুধ দিয়েছেন বাটি সাজিয়ে।ভাই কাঁদেন ভাই কাঁদেন আঁচল ধরিয়ে।সেই যে-ভাই কাপড় দিয়েছেন আলনা সাজিয়েবোন কাঁদেন বোন কাঁদেন খাটের খুরো ধ’রে।সেই যে-বোন—
বোন্ কাঁদেন বোন কাঁদেন খাটের খুরো ধরে।সেই যে-বোন গাল দিয়েছেন স্বামীখাকী ব’লে।
দোল্ দোল্ দুলুনি।রাঙা মাথায় চিরুনি।বর আসবে এখনি।নিয়ে যাবে তখনি।কেঁদে কেন মরো।আপনি বুঝিয়া দেখো কার ঘর করো।
পুঁটু যাবে স্বশুরবাড়ি সঙ্গে যাবে কে।ঘরে আছে কুনো বেড়াল কোমর বেঁধেছে।আম কাঠালের বাগান দেব ছায়ায় ছায়ায় যেতে।চার মিন্সে কাহার দেব পালকি বহাতে।সরু ধানের চিঁড়ে দেব পথে জল খেতে।
চার মাগী দাসী দেব পায়ে তেল দিতে।উড়কি ধানের মুড়কি দেব শাশুড়ি ভুলাতে।
ডালিম গাছে পর্ভু নাচে।তাক ধুমাধুম বাদ্দি বাজে।আই গো চিন্তে পারো।গোটা-দুই অন্ন বাড়ো।অন্নপূর্ণা দুধের সর।কাল যাব গো পরের ঘর।পরের বেটা মাল্লে চড়।কান্তে কান্তে বুড়োর ঘর।খুড়ো দিলে বুড়ো বর।
হেই খুড়ো, তোর পায়ে ধরি।থুয়ে আয়গা মায়ের বাড়ি।মায়ে দিল সরু শাঁখা, রাপে দিল শাড়ি।ভাই দিল হুড়কো ঠেঙা, চল্ শ্বশুরবাড়ি।
তালগাছ কাটম্ বোসের বাটম্ গৌরী এল ঝি।তোর কপালে বুড়ো বর আমি করব কী।টঙ্কা ভেঙে শঙ্খা দিলাম, কানে মদন-কড়ি।বিয়ের বেলা দেখে এলুম বুড়ে। চাপদাড়ি।চোখ খাও গো বাপ মা, চোখ খাও গো খুড়ো।এমন বরকে বিয়ে দিয়েছিলে তামাক খেগে। বুড়োবুড়োর হুঁকে। গেল ভেসে, বুড়ো মরে কেশে।নেড়ে চেড়ে দেখি বুড়ো মরে রয়েছে।ফেন গালবার সময় বুড়ো নেচে উঠেছে।
চাঁদ কোথা পাব বাছা, জাদুমণি।মাটির চাঁদ নয় গ’ড়ে দেব,
গাছের চাঁদ নয় পেড়ে দেব,তোর মতন চাঁদ কোথায় পাব।তুই চাঁদের শিরোমণি।ঘুমো রে আমার খোকামণি।
হাটের ঘুম ঘাটের ঘুম পথে পথে ফেরে।চার কড়া দিয়ে কিন্লেম ঘুম, মণির চোখে আয় রে।
থেনা নাচন থেনা।বট পাকুড়ের ফেনা।বলদে খালো চিনা, ছাগলে খালো ধান।সোনার জাদুর জন্যে যায়ে নাচনা কিনে আন্।
হাতের নাচন, পায়ের নাচন, বাটা মুখের নাচন,নাটা চোখের নাচন, কাঁটালি ভুরুর নাচন,বাঁশির নাকের নাচন, মাজা বেঙ্কুর নাচন,
আর নাচন কী।অনেক সাধন ক’রে জাদু পেয়েছি।
খোকা এল বেড়িয়ে।দুধ দাও গো জুড়িয়ে।দুধের বাটি তপ্ত।খোকা হলেন খ্যাপ্ত।খোকা যাবেন নায়ে।লাল জুতুয়া পায়ে।
ধনকে নিয়ে বনকে যাব— সেখানে খাব কী।নিরলে বসিরা চাঁদের মুখ নিরখি।
খোকা যাবে বেড়ু করতে তেলিমাগীদের পাড়া।তেলিমাগীরা মুখ করেছে কেন রে মাখনচোরা।ভাঁড় ভেঙেছে, ননি খেয়েছে, আর কি দেখা পাব।কদমতলার দেখা পেলে বাঁশি কেড়ে নেব।
Comments
Loading comments…