সন্ধ্যা
কাব্যগ্রন্থ — সন্ধ্যা-সঙ্গীত
ব্যথা বড় বাজিয়াছে প্রাণে,সন্ধ্যা তুই ধীরে ধীরে আয়।কাছে আয়——আরো কাছে আয়——সঙ্গীহারা হৃদয় আমারতোর বুকে লুকাইতে চায়।
তোর কাছে ফেলিরে নিশ্বাস,তোর কাছে কহি মন-কথা,তোর কাছে করি প্রসারিতপ্রাণের নিভৃত নীরবতা।তোর গান শুনিতে শুনিতেতোর তারা গুনিতে গুনিতে,নয়ন মুদিয়া আসে মোর,হৃদয় হইয়া আসে ভোর——স্বপন গোধূলিময় প্রাণহারায় প্রাণের মাঝে তোর।একটি কথাও নাই মুখে,চেয়ে শুধু রোস্ মুখপানেঅনিমেষ আনত নয়ানে।
ধীরে শুধু ফেলিস্ নিশ্বাস,ধীরে শুধু কানে কানে গাস্ঘুম-পাড়াবার মৃদু গান,কোমল কমল-কর দিয়েঢেকে শুধু দিস্ দুনয়ান,ভুলে যাই সকল যাতনাজুড়াইয়া আসে মোর প্রাণ।
তাই তোরে ডাকি একবার,আমার দুখেরে ঢেকে রাখ্,বল্ তারে ঘুমাইতে বল্কপালেতে হাতখানি রাখ্।কোলাহল করিয়া দে দূর-দুখেরে কোলেতে করে নিয়েরচে’ দে নিভৃত অন্তঃপুর।
আয় সন্ধ্যা, ধীরে ধীরে আয়,হাতে লয়ে স্বপনের ডালা,গুন্ গুন্ মন্ত্র পড়ি পড়িগাঁথিয়া দে স্বপনের মালাজড়ায়ে দে আমার মাথায়,স্নেহ-হস্ত বুলায়ে দে গায়।
স্রোতস্বিনী ঘুমঘোরে, গাবে কুলু কুলু করেঘুমেতে জড়িত আধ’ গান,ঝিল্লিরা ধরিবে একতান।দিন-শ্রমে শ্রান্ত বায়ু গৃহমুখে যেতে যেতেগান গাবে অতি মৃদু স্বরে,পদশব্দ শুনি তার তন্দ্রা ভাঙি লতা পাতাভর্ৎসনা করিবে মরমরে।গুঞ্জরিত গানগুলি মিলিয়া হৃদয়-মাঝেমিশে যাবে স্বপনের সাথে,নানা নব রূপ ধরি ভ্রমিয়া বেড়াবে তারাহৃদয়ের গুহাতে হাতে।আয় সন্ধ্যা, ধীরে ধীরে আয়জগতের নয়ন ঢেকে দে—আঁধার আঁচল পেতে দিয়েকোলেতে মাথাটি রেখে দে!
Comments
Loading comments…