মানবপুত্র

খৃষ্ট

মৃত্যুর পাত্রে খৃষ্ট যেদিন মৃত্যুহীন প্রাণ উৎসর্গ করলেনরবাহূত অনাহূতের জন্যে,তার পরে কেটে গেছে বহুশত বৎসর।আজ তিনি একবার নেমে এলেন নিত্যধাম থেকে মর্তধামে।চেয়ে দেখলেন,সে কালেও মানুষ ক্ষতবিক্ষত হত যে-সমস্ত পাপের মারে—যে উদ্ধত শেল ও শল্য, যে চতুর ছোরা ও ছুরি,যে ক্রুর কুটিল তলোয়ারের আঘাতে,বিদ্যুদ‍্বেগে আজ তাদের ফলায় শান দেওয়া হচ্ছেহিস‍্হিস্ শব্দে স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়েবড়ো বড়ো মসীধুমকেতন কারাখানাঘরে।

কিন্তু দারুণতম যে মৃত্যুবাণ নূতন তৈরি হল,ঝক্ ঝক্ ক’রে উঠল নরঘাতকের হাতে,পূজারি তাতে লাগিয়েছে তাঁরই নামের ছাপতীক্ষ্ণ নখে আঁচড় দিয়ে।খৃষ্ট বুকে হাত চেপে ধরলেন—বুঝলেন, শেষ হয় নি তাঁর নিরবচ্ছিন্ন মৃত্যুর মুহূর্ত,নূতন শূল তৈরি হচ্ছে বিজ্ঞানশালায়,

বিঁধছে তাঁর গ্রন্থিতে গ্রন্থিতে।সেদিন তাঁকে মেরেছিল যারাধর্মমন্দিরের ছায়ায় দাঁড়িয়েতারাই আজ নূতন জন্ম নিল দলে দলে,তারাই আজ ধর্মমন্দিরের বেদির সামনে থেকেপূজামন্ত্রের সুরে ডাকছে ঘাতক সৈন্যকে—বলছে, ‘মারো! মারো!’

মানবপুত্র যন্ত্রণায় বলে উঠলেন উর্ধ্বে চেয়ে;‘হে ঈশ্বর, হে মানুষের ঈশ্বর,কেন আমাকে ত্যাগ করলে!’শ্রাবণ ১৩৩৯

Comments

Loading comments…