গীতালি — ১০৭

মুদিত আলোর কমল-কলিকাটিরেরেখেছে সন্ধ্যা আঁধার-পর্ণপুটে।উতরিবে যবে নব-প্রভাতের তীরেতরুণ কমল আপনি উঠিবে ফুটে।উদয়াচলের সে তীর্থপথে আমিচলেছি একেলা সন্ধ্যার অনুগামী,দিনান্ত মোর দিগন্তে পড়ে লুটে॥

সেই প্রভাতের স্নিগ্ধ সুদূর গন্ধআঁধার বাহিয়া রহিয়া রহিয়া আসে।আকাশে যে, গান ঘুমাইছে নিঃস্পন্দ।তারাদীপগুলি কঁপিছে তাহারি শ্বাসে।অন্ধকারের বিপুল গভীর আশাঅন্ধকারের ধ্যাননিমগ্ন ভাষাবাণী খুঁজে ফিরে আমার চিত্তাকাশে॥

জীবনের পথ দিনের প্রান্তে এসেনিশীথের পানে গহনে হয়েছে হারা।অঙ্গুলি তুলি তারাগুলি অনিমেষেমাভৈঃ বলিয়া নীরবে দিতেছে সাড়া।ম্লান দিবসের শেষের কুসুম তুলেএ কূল হইতে নবজীবনের কূলেচলেছি আমার যাত্রা করিতে সারা॥

হে মোর সন্ধ্যা, যাহা কিছু ছিল সাথেরাখিনু তোমার অঞ্চলতলে ঢাকি।আঁধারের সাথি, তোমার করুণ হাতেবাঁধিয়া দিলাম আমার হাতের রাখি।কত যে প্রাতের আশা ও রাতের গীতি,কত যে সুখের স্মৃতি ও দুখের প্রীতি,বিদায়বেলায় আজিও রহিল বাকি॥

যা কিছু পেয়েছি, যাহা কিছু গেল চুকে,চলিতে চলিতে পিছে যা রহিল পড়ে,যে মণি দুলিল যে ব্যথা বিঁধিল বুকে,ছায়া হয়ে যাহা মিলায় দিগন্তরে,

জীবনের ধন কিছুই যাবে না ফেলা—ধুলায় তাদের যত হোক অবহেলা—পূর্ণের পদ-পরশ তাদের প’রে॥

Comments

Loading comments…