পূর্ণিমা
চিত্রা
পড়িতেছিলাম গ্রন্থ বসিয়া একেলা,সঙ্গীহীন প্রবাসের শুন্য সন্ধ্যাবেলাকরিবারে পরিপূর্ণ। পণ্ডিতের লেখাসমালোচনার তত্ত্ব; পড়ে’ হয় শেখাসৌন্দর্য্য কাহারে বলে—আছে কি কি বীজকবিত্ব কলায়;—শেলি, গেটে, কোল্রীজকান্ কোন্ শ্রেণী! পড়ি’ পড়ি’ বহুক্ষণতাপিয়া উঠিল শির, শ্রান্ত হল মন,মনে হল সব মিথ্যা, কবিত্ব কল্পনাসৌন্দর্য্য সুরুচি রস সকলি জল্পনালিপি-বণিকের;—অন্ধ গ্রন্থকীটগণবহু বর্ষ ধরি’ শুধু করিছে রচন
শব্দ মরীচিকা জাল, আকাশের পরেঅকর্ম্ম আলস্যাবেশে দুলিবার তরেদীর্ঘ রাত্রি দিন!অবশেষে শ্রান্তি মানিতন্দ্রাতুর চোখে, বন্ধ করি গ্রন্থখানিঘড়িতে দেখিনু চাহি দ্বিপ্রহর রাতি,চমকি আসন ছাড়ি নিবাইনু বাতি।যেমনি নিবিল আলো, উচ্ছ্বসিত স্রোতেমুক্ত দ্বারে, বাতায়নে, চতুর্দ্দিক হতেচকিতে পড়িল কক্ষে বক্ষে চক্ষে আসিত্রিভুবন বিপ্লাবিনী মৌন সুধাহাসি!হে সুন্দরী হে প্রেয়সী, হে পূর্ণ পূর্ণিমা,অনন্তের অন্তরশায়িনী! নাহি সীমাতব রহস্যের! এ কি মিষ্ট পরিহাসেসংশয়ীর শুষ্ক চিত্ত সৌন্দর্য্য উচ্ছ্বাসেমুহূর্ত্তে ডুবালে? কখন্ দুয়ারে এসেমুখানি বাড়ায়ে, অভিসারিকার বেশেআছিলে দাঁড়ায়ে, এক প্রান্তে, সুররাণী,সুদূর নক্ষত্র হতে সাথে করে’ আনি’
বিশ্বতরা নীরবতা! আমি গৃহকোণেতর্কজালবিজড়িত ঘন বাক্যবনেশুষ্কপত্রপরিকীর্ণ অক্ষরের পথেএকাকী ভ্রমিতেছিনু শূন্য মনোরথে,তোমারি সন্ধানে! উদ্ভ্রান্ত এ ভকতেরেএতক্ষণ ঘুরাইলে ছলনার ফেরে!কি জানি কেমন করে’ লুকায়ে দাঁড়ালেএকটি ক্ষণিক ক্ষুদ্র দীপের আড়ালেহে বিশ্বব্যাপিনী লক্ষ্মী! মুগ্ধ কর্ণপুটেগ্রন্থ হতে গুটিকত বৃথা বাক্য উঠে’আচ্ছন্ন করিয়াছিল কেমনে না জানিলোকলোকান্তরপূর্ণ তব মৌন বাণী!
Comments
Loading comments…