মধ্যাহ্ন
চৈতালি
বেলা দ্বিপ্রহর।ক্ষুদ্র শীর্ণ নদীখানি শৈবালে জর্জরস্থির স্রোতোহীন। অর্ধমগ্ন তরী-’পরেমাছরাঙা বসি, তীরে দুটি গােরু চরেশস্যহীন মাঠে। শান্তনেত্রে মুখ তুলেমহিষ রয়েছে জলে ডুবি। নদীকুলেজনহীন নৌকা বাঁধা। শূন্য ঘাটতলেরৌদ্রতপ্ত দাঁড়কাক স্নান করে জলেপাখা ঝট্পটি। শ্যাম শষ্পতটে তীরেখঞ্জন দুলায়ে পুচ্ছ নৃত্য করি ফিরে।চিত্রবর্ণ পতঙ্গম স্বচ্ছ পক্ষভরেআকাশে ভাসিয়া উড়ে, শৈবালের ’পরেক্ষণে ক্ষণে লভিয়া বিশ্রাম। রাজহাঁসঅদূরে গ্রামের ঘাটে তুলি কলভাষশুভ্র পক্ষ ধৌত করে সিক্ত চঞ্চুপুটে।শুকতৃণগন্ধ বহি ধেয়ে আসে ছুটেতপ্ত সমীরণ— চলে যায় বহু দূর।
থেকে থেকে ডেকে ওঠে গ্রামের কুকুরকলহে মাতিয়া। কভু শান্ত হাম্বাস্বর,কভু শালিকের ডাক, কখনো মর্মরজীর্ণ অশথের, কভু দূর শূন্য-’পরেচিলের সুতীব্র ধ্বনি, কভু বায়ুভরেআর্ত শব্দ বাঁধা তরণীর—মধ্যাহ্নেরঅব্যক্ত করুণ একতান, অরণ্যেরস্নিগ্ধচ্ছায়া, গ্রামের সুষুপ্ত শান্তিরাশি,মাঝখানে বসে আছি আমি পরবাসী।প্রবাসবিরহদুঃখ মনে নাহি বাজে;আমি মিলে গেছি যেন সকলের মাঝে;ফিরিয়া এসেছি যেন আদি জন্মস্থলেবহুকাল পরে—ধরণীর বক্ষতলেপশু পাখি পতঙ্গম সকলের সাথেফিরে গেছি যেন কোন্ নবীন প্রভাতেপূর্বজন্মে— জীবনের প্রথম উল্লাসেআঁকড়িয়া ছিনু যবে আকাশে বাতাসেজলে স্থলে, মাতৃস্তনে শিশুর মতন,আদিম আনন্দরস করিয়া শোষণ।
Comments
Loading comments…