প্রবাসে

ছড়ার ছবি

বিদেশমুখাে মন যে আমার কোন্ বাউলের চেলা,গ্রাম-ছাড়ানাে পথের বাতাস সর্বদা দেয় ঠেলা।

তাই তো সেদিন ছুটির দিনে টাইম-টেবিল প’ড়েপ্রাণটা উঠল নড়ে।বাক্সো নিলেম ভর্তি করে, নিলেম ঝুলি থ’লে—বাংলাদেশের বাইরে গেলেম গঙ্গাপারে চ’লে।লােকের মুখে গল্প শুনে গােলাপ-খেতের টানেমনটা গেল এক দৌড়ে গাজিপুরের পানে।সামনে চেয়ে চেয়ে দেখি গম-জোয়ারির খেতেনবীন অঙ্কুরেতেবাতাস কখন হঠাৎ এসে সােহাগ করে যায়হাত বুলিয়ে কাঁচা শ্যামল কোমল কচি গায়।আটচালা ঘর, ডাহিন দিকে সবজি-বাগানখানাশুশ্রূষা পায় সারা দুপুর জোড়া-বলদ-টানাআঁকাবাঁকা কলকলানি করুণ জলের ধারায়—চাকার শব্দে অলস প্রহর ঘুমের ভারে ভারায়।ইঁদারাটার কাছেবেগনি ফলে তুঁতের শাখা রঙিন হয়ে আছে।অনেক দূরে জলের রেখা চরের কূলে কূলে,ছবির মতাে নৌকো চলে পাল-তােলা মাস্তুলে।সাদা ধুলাে হাওয়ায় ওড়ে, পথের কিনারায়গ্রামটি দেখা যায়।খােলার চালের কুটীরগুলি লাগাও গায়ে গায়েমাটির প্রাচীর দিয়ে ঘেরা আম-কাঁঠালের ছায়েগােরুর গাড়ি পড়ে আছে মহানিমের তলে,ডােবার মধ্যে পাতা-পচা পাঁক-জমানাে জলেগম্ভীর ঔদাস্যে অলস আছে মহিষগুলিএ ওর পিঠে আরামে ঘাড় তুলি।

বিকেল-বেলায় একটুখানি কাজের অবকাশেখােলা দ্বারের পাশেদাঁড়িয়ে আছে পাড়ার তরুণ মেয়েআপন-মনে অকারণে বাহির-পানে চেয়ে।অশথতলায় বসে তাকাই ধেনুচারণ মাঠে,আকাশে মন পেতে দিয়ে সমস্ত দিন কাটে।মনে হ’ত চতুর্দিকে হিন্দি ভাষায় গাঁথাএকটা যেন সজীব পুঁথি, উলটিয়ে যাই পাতা-কিছু বা তার ছবি-আঁকা কিছু বা তার লেখা,কিছু বা তার আগেই যেন ছিল কখন্ শেখা।ছন্দে তাহার রস পেয়েছি, আউড়িয়ে যায় মন-সকল কথার অর্থ বােঝার নাইকো প্রয়ােজন।

Comments

Loading comments…