বালক

ছড়ার ছবি

বয়স তখন ছিল কাঁচা; হালকা দেহখানাছিল পাখির মতো, শুধু ছিল না তার ডানা।উড়ত পাশের ছাদের থেকে পায়রাগুলাের ঝাঁক,বারান্দাটার রেলিঙ-’পরে ডাকত এসে কাক।ফেরিওয়ালা হেঁকে যেত গলির ওপার থেকে,তপসিমাছের ঝুড়ি নিত গামছা দিয়ে ঢেকে।বেহালাটা হেলিয়ে কাঁধে ছাদের ’পরে দাদা,সন্ধ্যাতারার সুরে যেন সুর হত তাঁর সাধা।জুটেছি বৌদিদির কাছে ইংরেজি পাঠ ছেড়ে,মুখখানিতে-ঘের-দেওয়া তাঁর শাড়িটি লালপেড়ে।চুরি ক’রে চাবির গােছা লুকিয়ে ফুলের টবেস্নেহের রাগে রাগিয়ে দিতেম নানান উপদ্রবে।কঙ্কালী চাটুজ্জে হঠাৎ জুটত সন্ধ্যা হলে—বাঁ হাতে তার থেলাে হুঁকো, চাদর কাঁধে ঝোলে।দ্রুত লয়ে আউড়ে যেত লবকুশের ছড়া,থাকত আমার খাতা লেখা, পড়ে থাকত পড়া—মনে মনে ইচ্ছে হত যদিই কোনাে ছলেভর্তি হওয়া সহজ হত এই পাঁচালির দলেভাব্না মাথায় চাপত নাকো ক্লাসে ওঠার দায়ে,গান শুনিয়ে চলে যেতুম নতুন নতুন গাঁয়ে।স্কুলের ছুটি হয়ে গেলে বাড়ির কাছে এসেহঠাৎ দেখি, মেঘ নেমেছে ছাদের কাছে ঘেঁষে।আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামে, রাস্তা ভাসে জলে,ঐরাবতের শুড় দেখা দেয় জল-ঢালা সব নলে।

অন্ধকারে শােনা যেত রিম্ঝিমিনি ধারা,রাজপুত্র তেপান্তরে কোথা সে পথহারা।ম্যাপে যে-সব পাহাড় জানি, জানি যে-সব গাঙকুয়েন্লুন আর মিসিসিপি ইয়াংসিকিয়াঙ,জানার সঙ্গে আধেক জানা, দূরের থেকে শােনা,নানা রঙের নানা সুতােয় সব দিয়ে জাল-বােনা,নানারকম ধ্বনির সঙ্গে নানান চলাফেরা,সব দিয়ে এক হালকা জগৎ মন দিয়ে মাের ঘেরা—ভাব্নাগুলো তারই মধ্যে ফিরত থাকি থাকিবানের জলে শ্যাওলা যেমন মেঘের তলে পাখি।

Comments

Loading comments…