বুধু
ছড়ার ছবি
মাঠের শেষে গ্রাম,সাতপুরিয়া নাম।চাষের তেমন সুবিধা নেই কৃপণ মাটির গুণে,পঁয়ত্রিশ ঘর তাঁতির বসত- ব্যাবসা জাজিম বুনে।নদীর ধারে খুঁড়ে খুঁড়ে পলির মাটি খুঁজেগৃহস্থেরা ফসল করে কাঁকুড়ে তরমুজে।ঐখানেতে বালির ডাঙা, মাঠ করছে ধু ধু,ঢিবির ’পরে বসে আছে গাঁয়ের মােড়ল বুধু।সামনে মাঠে ছাগল চরছে ক’টা—শুকনাে জমি, নেইকো ঘাসের ঘটা।
কী যে ওরা পাচ্ছে খেতে ওরাই সেটা জানে,ছাগল ব’লেই বেঁচে আছে প্রাণে।আকাশে আজ হিমের আভাস, ফ্যাকাশে তার নীল,অনেক দূরে যাচ্ছে উড়ে চিল।হেমন্তের এই রােদ্দুরটা লাগছে অতি মিঠে,ছােটো নাতি মােগ্লুটা তার জড়িয়ে আছে পিঠে।স্পর্শপুলক লাগছে দেহে, মনে লাগছে ভয়—বেঁচে থাকলে হয়।গুটি তিনটি ম’রে শেষে ঐটি সাধের নাতি,রাত্রিদিনের সাথি!গােরুর গাড়ির ব্যাবসা বুধুর চলছে হেসে-খেলেই,নাড়ী ছেঁড়ে এক পয়সা খরচ করতে গেলেই।কৃপণ ব’লে গ্রামে গ্রামে বুধুর নিন্দে রটে,সকালে কেউ নাম করে না উপােস পাছে ঘটে।ওর যে কৃপণতা সে তো ঢেলে দেবার তরে,যত কিছু জমাচ্ছে সব মােগ্লু নাতির ’পরে।পয়সাটা তার বুকের রক্ত, কারণটা তার ঐ—এক পয়সা আর কারাে নয় ঐ ছেলেটার বৈ।না খেয়ে, না প’রে, নিজের শােষণ ক’রে প্রাণযেটুকু রয় সেইটুকু ওর প্রতি দিনের দান।দেব্তা পাছে ঈর্ষাভরে নেয় কেড়ে মােগ্লুকে,আঁকড়ে রাখে বুকে।এখনাে তাই নাম দেয় নি, ডাক নামেতেই ডাকে—নাম ভাঁড়িয়ে ফাঁকি দেবে নিষ্ঠুর দেব্তাকে।
Comments
Loading comments…