রিক্ত

ছড়ার ছবি

বইছে নদী বালির মধ্যে, শূন্য বিজন মাঠ,নাই কোনাে ঠাঁই ঘাট।অল্প জলের ধারাটি বয়, ছায়া দেয় না গাছে,গ্রাম নেইকো কাছে!রুক্ষ হাওয়ায় ধরার বুকে সূক্ষ্ম কাঁপন কাঁপেচোখ-ধাঁধাঁনাে তাপে।কোথাও কোনাে শব্দ-যে নেই তারই শব্দ বাজেঝাঁ-ঝাঁ করে সারাদুপুর দিনের বক্ষোমাঝে।আকাশ যাহার একলা অতিথ শুষ্ক বালুর স্তূপেদিগ্বধূ রয় অবাক হয়ে বৈরাগিণীর রূপে।

দূরে দূরে কাশের ঝােপে শরতে ফুল ফোটে,বৈশাখে ঝড় ওঠে।আকাশ ব্যেপে ভূতের মাতন বালুর ঘূর্ণি ঘােরে;নৌকো ছুটে আসে না তাে সামাল সামাল ক’রে।বর্ষা হলে বন্যা নামে দূরের পাহাড় হতে,কূল-হারান স্রোতেজলে স্থলে হয় একাকার— দমকা হওয়ার বেগেসওয়ার যেন চাবুক লাগায় দৌড়-দেওয়া মেঘে।সারা বেলাই বৃষ্টিধারা ঝাপট লাগায় যবেমেঘের ডাকে সুর মেশে না ধেনুর হাম্বারবে।খেতের মধ্যে কঙ্কলিয়ে ভােলা স্রোতের জলভাসিয়ে নিয়ে আসে না তাে শ্যাওলা-পানার দল।রাত্রি যখন ধ্যানে বসে তারাগুলির মাঝেতীরে তীরে প্রদীপ জ্বলে না যে—সমস্ত নিঃঝুমজাগাও নেই কোনােখানে, কোত্থাও নেই ঘুম।

Comments

Loading comments…