কদমাগঞ্জ উজাড় করে

ছড়া

কদমাগঞ্জ উজাড় করেআসছিল মাল মালদহে,চড়ায় প’ড়ে নৌকোডুবিহল যখন কালদহেতলিয়ে গেল অগাধ জলেবস্তা বস্তা কদমা যেপাঁচ মােহনার কৎলু-ঘাটেব্রহ্মপুত্রনদ-মাঝে।আসামেতে সদ্‌কি জেলায়হালুফিড়াং পর্বতেরতলায় তলায় ক’দিন ধরেবইল ধারা শর্বতের।মাছ এল সব কাৎলাপাড়াখয়রাহাটি ঝেঁটিয়ে,মােটা মােটা চিংড়ি ওঠেপাঁকের তলা ঘেঁটিয়ে।চিনির পানা খেয়ে খুশিডিগবাজি খায় কাৎলা,চাঁঁদা মাছের সরু জঠররইল না আর পাৎলা।

শেষে দেখি ইলিশ মাছেরজলপানে আর রুচি নাই,চিতল মাছের মুখটা দেখেইপ্রশ্ন তারে পুছি নাই।ননদকে ভাজ বললে, তুমিমিথ্যে এ মাছ কোটো ভাই—রাঁধতে গিয়ে দেখি এ যেমিঠাই গজার ছছাটো ভাই।মেছােনিকে গিন্নি বলেন,ঝুড়ির ঢাকা খুলাে না,মাছের রাজ্যে কোথাও যে নেইএ মৌরলার তুলনা।বাগীশকে কাল শুধিয়েছিলেম,ব্রহ্মা কি কাজ ভুলল,বিধাতা কি শেষ বয়সেময়রা-দোকান খুলল।যতীন ভায়ার মনে জাগেক্রমবিকাশ থিয়ােরি,গলব্লাডারে ক্রমে ক্রমেচিনি জমছে কি ওরই।খগেন বলে, মাছের মধ্যেমাধুর্য নয় পথ্যাচার,

চচ্চড়িতে মােরব্বাতেএকাত্মবাদ অত্যাচার।বেদান্তী কয়, রসনাতেরসের অভেদ গলতি,এমন হলে রাজ্যে হবেনিরামিষের চলতি।ডাক পড়েছে অধ্যাপকেরজামাইষষ্ঠী পার্বণে,খাওয়ায় তাকে যত্ন করেশাশুড়ি আর চার বােনে।মাছের মুড়াে মুখে দিয়েইউঠল জেগে বকুনি,হাত নেড়ে সে তত্ত্বকথাকরলে শুরু তখুনি—কলিযুগের নিমক খেয়েআমরা মানুষ সকলেই,হঠাৎ বিষম সাধু হয়েসত্য যুগের নকলেইসব জাতেরই নিমকি থেকেনিমক যদি হটিয়ে দেয়,সকল ভাড়েই চিনির পানারজয়ধ্বনি রটিয়ে দেয়,

চিনির বলদ জোড়ে এসেসকল মিটিং কমিটি,চোখের জলেই নােন্‌তা হবেবাংলাদেশের জমিটি।নােনার স্থানে থাকবে নােনা,মিঠের স্থানে মিষ্টি,সাহিত্যে বা পাকশালাতেএরেই বলে কৃষ্টি।চিনি সে তত বার-মহলেররক্তে বসত নােন্‌তার―দোকানে প্রাণ মিষ্টি খোঁজে,নুন যে আপন ধন তার।সাগরবাসের আদিম উৎসচোখের জলে খুলিয়ে দেয়,নির্বাসনের দুঃখটা তারআখের খেতে ভুলিয়ে দেয়।অতএব এই—কী পাগলামি,কলম উঠল ক্ষেপে,মিথ্যে বকা দৌড় দিয়েছেমিলের স্কন্ধে চেপে।কবির মাথা ঘুলিয়ে গেছেবৈশাখের এই রােদে,

চোখের সামনে দেখছে কেবলমাছের ডিমের বোঁদে।ঠাণ্ডা মাথায় ঘুচুক এবাররসের অনাবৃষ্টি,উলটো-পালটা না হয় যেননোন্‌তা এবং মিষ্টি।

[মংপু২৮ এপ্রিল-২ মে ১৯৪০]

Comments

Loading comments…