রাত্তিরে কেন হল মর্জি
ছড়া
রাত্তিরে কেন হল মর্জি,চুল কাটে চাঁদনির দর্জি।চুমরিয়ে দিল তার জুলফি,নাপিত আদায় করে full fee।চাদনির রাঁধ্নি-সে আসে যায়।বঁড়শি বেহালা থেকে বাসে যায়।ভবুরাম ওর পাড়াপড়শী,বেচে সে লাটাই আর বঁড়শি।আর বেচে যাত্রার বেয়ালা,আর বেচে চা খাবার পেয়ালা।চা খেয়ে সে দিল ঘুম তখুনি,সইল না গিন্নির বকুনি।কটকের নেত্ত মজুমদার,সে বটে সুবিখ্যাত ঘুমদার।কালু সিং দেয় তারে পাক্কাতিন মন ওজনের ধাক্কা।হাই তুলে বলে, এ কী ঠাট্টা—ঘড়িতে যে সবে সাড়ে-আটটা।চৌকিদারের মেজো শালী সেপড়ে থাকে মুখ গুঁজে বালিশে।
তাই দেখে গলা-ভাঙা পালােয়ানবাজখাঁই সুরে বলে, আলাে আন্।নীচে থেকে বলে হেঁকে রহমৎ,বাংলা জবানি তুমি কহো মৎ।ও দিকে মাথায় বেঁধে তােয়ালেভিকুরাম নাচে তার গােয়ালে।তােয়ালেটা পাদরির ভাইঝির,মােজা-জোড়া খড়দার বাইজির।পিরানের পাড়ে দেয় চুমকি,ইরানেতে সেলাইয়ের ধুম কী।বােগদাদে তাই যাবে আলাদিনশাশুড়ি যতই ঘরে তালা দিন।শাশুড়ির মুখ ঢাকা বুরখায়পাছে তারে ঠেলা মারে।চুরি গেছে গুর্খায় ভেপুটি,এজলাসে চিন্তিত ডেপুটি।ডেপুটির জুতাে মােড়া সাটিনেই,কোনােখানে দাঁতনের কাঠি নেই।দাঁতনের খোঁজে লাগে খটকা,পেয়াদা ঘি আনে তিন মটকা।গাওয়া ঘি সে নয়, সে যে ভয়সা,সের-করা দাম পাঁচ পয়সা।
বাবু বলে দাম খুব জেয়াদা,কাজে ইস্তফা দিল পেয়াদা।উমেদার এল আজ পয়লা।গোয়াড়ির যত গোড়ো গয়লা।পয়লায় ঘরে হাঁড়ি চড়ে না,পদ্মরে ছেড়ে খাঁদু নড়ে না।পদ্ম সেদিন মহা বিব্রত,বুধবারে ছিল তার কী ব্রত।ভাশুর পড়ল এসে সুমুখে,দুধ খেয়ে নিল এক চুমুকে।চেপে এল লজ্জা-শরমটা,টেনে দিল দেড়-হাত ঘোমটা।চুচঁড়োয় বাড়ি হরিমোহনের,গঙ্গায় স্নানে গেছে গ্রহণের।সঙ্গে নিয়েছে চার গণ্ডাবেছে বেছে পালোয়ান ষণ্ডা।তাল ঠোকে রামধন মুনশি,কোমরেতে তিন পাক ঘুনসি।দিদি বলে, মুখ তোর ফ্যাকাশে,ভালো করে ডাক্তার দেখা সে।বলে ওঠে তিনকড়ি পোদ্দার—আগে তুই উকিলের শোধ্ ধার।
ভিখু শুনে কেঁদে চোখ রগড়ায়,একদম চলে গেল মগরায়।মগরায় খুদি নিয়ে খুঞ্চেখেজুরের আঁটিগুলো গুনছে।—যেই হল তিন-কুড়ি পাঁচটা,দেখে নিল উনুনের আঁচটা।ননদের ঘরে ক’রে ঘি চুরিতখনি চড়িয়ে দিল খিচুড়ি।হল না তো চালে ডালে মেলানো,মুশকিল হবে ওটা গেলানো।সাড়া পায় মাছওয়াল মিনসের,বলে, পাকা রুই চাই তিন সের।বনমালী মাছ আনে গামছায়,বলে ও যে এক্ষুনি দাম চায়।আচ্ছা, সে দেখা যাবে কালকে—ব’লেই সে চলে গেল শালকে।মুনশি যখন লেখে তৌজি,জলে নামে শালিকের বউ ঝি।শালকের ঘাটে ভাঙা পালকি—কালু যাবে বানিচঙে কাল কি।বানিচঙে ঢেঁকি পাকা গাঁথনি,ধান কোটে কালুদার নাৎনি।
বানিচঙ কোন্ দেশে কোন্ গাঁয়কে জানে সে যশােরে কি বনগাঁয়।ফুটবলে বনগাঁর মােক্তারযত হারে, তত বাড়ে রােখ তার।তার ছেলে হরেরাম মিত্তির,আঁক ক'ষে ব্যামো হল পিত্তির।মুখ চোখ হয়ে গেল হােল্দে,ওরে ওকে পলতার ঝােল দে।পলতা কিনতে গেল ধুবড়ি,কিনল গুগলি এক চুবড়ি।হুগলির গুগলি কী মাগগি,ভাঙা হাটে পাওয়া গেল ভাগ্যি।ধুবড়িতে মানকচু সস্তা,ফাউ পেল কাগজ দু বস্তা।দেখে বলে নীলমণি সরকার—কাগজে হরুর খুব দরকার।জ্যামিতি অতীত তার সাধ্যর,যতই করুন তারে মারধাের।কাগজে বসিয়ে রেখে নারকেলপেন্সিলে কাটে ব’সে সার্কেল্।সার্কেল্ কাটতে সে কী বুঝেখামকাই ঠেকে গেল ত্রিভুজে।
সইতে পারে না তার চাপুনি,পালাজ্বরে দিল তারে কাঁপুনি।শ্রাদ্ধবাড়িতে লেগে ঠাণ্ডা।হেঁচে মরে ত্রিবেণীর পাণ্ডা।অবেলায় খেতে বসে দারোগা,সির সির করে ওঠে তার গা।টাট্টু ঘোড়ার এক গাড়িতেডাক্তার এল তার বাড়িতে।সে ঘোড়াটা বেড়া ভাঙে নন্দর,চিহ্ন রাখে না খেত-খন্দর।নন্দ বিকেলে গেল হাবড়ায়,সারি সারি গাড়ি দেখে ঘাবড়ায়।গোনে ব’সে— তিন চার পাঁচ সাত,আউড়িয়ে যায় সারা ধারাপাত।গুনে গুনে পারে না যে থামতে,গগ ক’রে থাকে ঘামতে।নয় দশ বারো তেরো চোদ্দ,মনে পড়ে পয়ারের পদ্য।কাশীরাম দাসে আনে পুণ্য,দশে আর বিশে লাগে শূন্য।‘কাশীরাম কাশীরাম’ রোল দেয়,সারাদিন মনে তার দোল দেয়,
আঁকগুলো মাথা থাকে ঘোলাতে,নন্দ ছুটেছে হাটখোলাতে।হাটখোলা শ্বশুরের গদি তার,সেইখানে বাস মেলে যদি তারএক সংখ্যায় মন দেবে ঝাঁপ—তার চেয়ে বেশি হলে হবে পাপ।আর নয়, আর নয়, আর নয়,কখনোই দুই তিন চার নয়॥
Comments
Loading comments…