সিউড়িতে হরেরাম মৈত্তির
ছড়া
সিউড়িতে হরেরাম মৈত্তিরপাঁজি দেখে সতেরােই চৈত্তির।বলে আজ যেতে হবে মথুরায়,সেথা তার মামা আছে সতু রায়।বেস্পতিবারে গাড়ি চ’ড়ে তারচাকা ভাঙে নরসিংগড়ে তার।তাই তার যাত্রাটা ঘুরুলে,ফিরে এসে চলে গেল সুরুলে।ঠিক হল যেতে হবে পেশােয়র,সেথা আছে সেজো মাসি মেসো আর।এসে দেখে একা আছে বউ সে,মেসো গেছে পানিপথে পৌষে।হাথুয়ার কাছাকাছি না যেতেইবাঙালি সে, ধরা পড়ে সাজেতেই।চোখ রাঙা ক’রে বলে দারােগা,থানামে লে কর্ হম্ মারাে গা।ছােটো ভাই বেঁধে চিঁড়ে মুড়কিসন্ন্যাসী হয়ে গেল রুড়কি।
ঠোকর খেয়ে পড়ে বোঁচকায়,কুক্ষণে পা দুখানা মােচকায়,শেষে গেল সুলতানপুরে সে,গান ধরে মুলতান-সুরে সে।বেলাশেষে এল যবে বামড়ায়কী ভীষণ মশা তাকে কামড়ায়।বুঝলে সে শান্ত যে হওয়া দায়,গােরুর গাড়িতে চলে নওয়াদায়।গােরুটা পড়ল মুখ থুবড়িক্রোশ দুই থাকতেই ধুবড়ি।কাটিহারে তুলে তাকে ধরল,তখন সে পেট ফুলে মরল।শুনেছে তিসির খুব নামাে দর,তাই পাড়ি দিতে গেল দামােদর।দামােদরে বুধুরাম খেয়া দেয়,চেপে বসে ডেপুটির পেয়াদায়।শংকর ভােরবেলা চুঁচড়ােয়হাউ হাউ শব্দে গা মুচড়ােয়।নাড়াজোলে বড়ােবাবু তখুনিশুরু করে বংশুকে বকুনি।বংশুর যত হােক খাটো আয়,তবু তার বিয়ে হবে কাটোয়ায়।
বাঁধা হুঁকো বাঁধা নিয়ে খড়দারধার দিলে মতিরাম সর্দার।শাঁখা চাই বলতেই শাঁখারিবলে, শাঁখা আছে তিন টাকারই।দর-কষাকষি নিয়ে অবশেষপুলিশ-থানায় হল সব শেষ।সাসারামে চলে গেল লােক তারখুঁজে যদি পাওয়া যায় মােক্তার।সাক্ষীর খোঁজে গেল চেউকি,গাঁজাখাের আছে সেথা কেউ কি।সাথে নিয়ে ভুলুদা ও শশিদিঅনুকূল চলে গেছে জসিদি।পথে যেতে বহু দুখ ভুগে রেখোঁড়া ঘােড়া বেচে এল মুঙেরে।মা ও দিকে বাতে তার পা খুঁড়ায়,পড়ে আছে সাত দিন বাঁকুড়ায়।ডাক্তার তিনকড়ি সাণ্ডেলবদলি করেছে বাসা বাণ্ডেল।তাই লােক পাঠায় কোদার্মায়,চিঠি লিখে দিল সে ভোঁদার মায়।সাতক্ষীরা এল চুপিচুপি সে,তার পরে গেল পাঁচথুপি সে।
সেখানেতে মাছি প’ল ভাতে তার,ঝগড়া হোটেলবাবু-সাথে তার।অতুল গিয়েছে কবে নাসিকে,সঙ্গে নিয়েছে তার মাসিকে।রাঁধবার লােক আছে মাদ্রাজিসাত টাকা মাইনেয় আধ-রাজি।লালাচাঁদ যেতে যেতে পাকুড়েখিদেটা মেটায় শসা কাঁকুড়ে।পৌঁছিয়ে বাহাদুরগঞ্জেহাঁসফাঁস করে তার মন যে।বাসা খুঁজে সাথী তার কাঙলাখুলনায় পেল এক বাঙলা।শুধু একখানা ভাঙা চৌকি,এখানেই থাকে মেজো বউ কি।নেমে গেল যেথা কানু জংশন,ভিমরুলে করে দিল দংশন।ডাক্তারে বলে চুন লাগাতেজ্বালাটাকে চায় যদি ভাগাতে।চুন কিনতে সে গেল কাট্নি,কিনে এল আমড়ার চাটনি।বিকানিরে পড়ল সে নাকালে,উটে তাকে কী বিষম ঝাঁকালে।
বাড়িভাড়া করেছিল শ্বশুরই,তাই খুশি মনে গেল মশুরি।শ্বশুর উধাও হল না ব’লে,জামাই কি ছাড়া পাবে তা ব’লে।জায়গা পেয়েছে মালগাড়িতে,হাত সে বুলাতেছিল দাড়িতে,ঝকা থেকে মুরগিটা নাকে তারঠোকর মেরেছে কোন্ ফাঁকে তার।নাকের গিয়েছে জাত রটে যায়,গাঁয়ের মােড়ল সব চটে যায়।কানপুর হতে এল পণ্ডিত,বলে, এরে করা চাই দণ্ডিত।লাশা হতে শ্বেত কাক খুঁজিয়ানাসাপথে পাখা দাও গুঁজিয়া।হাঁচি তবে হবে শত শতবার,নাক তার শুচি হবে ততবার।তার পরে হল মজা ভরপুরযখন সে গেল মজাফরপুর।শালা ছিল জমাদার থানাতে,ভােজ দিল মােগলাই খানাতে।জৌনপুরি কাবাবের গন্ধেভুরভুর করে সারা সন্ধে।
দেহটা এমনি তার তাতালেযেতে হল মেয়ো হাসপাতালেতার পরে কী যে হল শেষটাখবর না পাই করে চেষ্টা॥
Comments
Loading comments…