দোল
বনবাণী — নটরাজ-ঋতুরঙ্গশালা
আলোকরসে মাতাল রাতেবাজিল কার বেণু।দোলের হাওয়া সহসা মাতে,ছড়ায় ফুলরেণু।অমলরুচি মেঘের দলেআনিল ডাকি গগনতলে,উদাস হয়ে ওরা যে চলেশূন্যে-চরা ধেনু।
দোলের নাচে সে বুঝি আছেঅমরাবতীপুরে?বাজায় বেণু বুকের কাছে,বাজায় বেণু দূরে।শরম ভয় সকলি ত্যেজেমাধবী তাই আসিল সেজে,শুধায় শুধু ‘বাজায় কে যেমধুর মধু সুরে’।
গগনে শুনি একি এ কথা,কাননে কী যে দেখি!এ কি মিলনচঞ্চলতাবিরহব্যথা এ কি!
আঁচল কাঁপে ধরার বুকে,কী জানি তাহা সুখে না দুখে।ধরিতে যারে না পারে তারেস্বপনে দেখিছে কি।
লাগিল দোল জলে স্থলে,জাগিল দোল বনে-সোহাগিনীর হৃদয়তলে,বিরহিণীর মনে।মধুর মোরে বিধুর করেসুদূর তার বেণুর স্বরে,নিখিলহিয়া কিসের তরেদুলিছে অকারণে।
আনো গো আনো ভরিয়া ডালিকরবীমালা লয়ে,আনো গো আনো সাজায়ে থালিকোমল কিশলয়ে।এসো গো পীত বসনে সাজি,কোলেতে বীণা উঠুক বাজি,ধ্যানেতে আর গানেতে আজিযামিনী যাক বয়ে।
এসো গো এসো দোলবিলাসী,বাণীতে মোর দোলো-
ছন্দে মোর চকিতে আসিমাতিয়ে তারে তোলো।অনেক দিন বুকের কাছে।রসের স্রোত থমকি আছে,নাচিবে আজি তোমার নাচেসময় তারি হল।
কিশোর, আজি তোমার দ্বারেপরান মম জাগে।নবীন কবে করিবে তারেরঙিন তব রাগে।ভাবনাগুলি বাঁধন-খোলারচিয়া দিবে তোমার দোলা,দাঁড়িয়ো আসি হে ভাবে-ভোলা,আমার আঁখি-আগে।
Comments
Loading comments…