হেমন্তের প্রবেশ
বনবাণী — নটরাজ-ঋতুরঙ্গশালা
নমো, নমো, নমো।তুমি ক্ষুধার্তজনশরণ্য,অমৃত-অন্ন-ভোগধন্যকরো অন্তর মম।
হেমন্তেরে বিভল করে কিসে,চলিতে পথে হারালো কেন দিশে।যেন রে ওর আলোর স্মৃতিখানিবিস্মৃতির বাষ্পে নিল টানি—কণ্ঠ তাই হারালো তার বাণী,অশ্রু কাঁপে নয়ন-অনিমিষে।হেমন্তেরে বিভল করে কিসে।
ক্ষণেকতরে লও-না ঘরে ডাকি,যাত্রা ওর অনেক আছে বাকি।শিশিরকণা লাগিবে পায়ে পায়ে,রুক্ষ কেশ কাঁপিবে হিমবায়ে,আঁধার-করা ঘনবনের ছায়েশুষ্ক পাতা রয়েছে পথ ঢাকি।ক্ষণেকতরে লও-না ঘরে ডাকি।
বাসা যে ওর সুদূর হিমাচলে,শ্যাওলা-ঝোলা তিমিরগুহাতলে।যে পথ বাহি বলাকা যায় ফিরেসৈকতিনী নদীর তীরে তীরে,সে পথ দিয়ে ধানের খেত ঘিরেহিমের ভারে চলিবে পলে পলে।যেতে যে হবে সুদূর হিমাচলে।
চলিতে পথে এল আঁধার রাতি,নিবিয়া গেল ছিল যে ওর বাতি।অসুরদলে গগনে রচে কারা,তাই তো শশী হয়েছে জ্যোতিহারা,আকাশ ঘেরি ধরিবে যত তারাকে যেন জেলে কুহেলিজাল পাতি।নিবিয়া গেল ছিল যে ওর বাতি॥
বধূরা যবে সাঁজের জ্যোতি জ্বালএকটি দীপ উহারে দেওয়া ভালো।দেবতা যারে বিঘ্ন দিয়ে হানেতোমরা তারে বাঁচায়ো দয়াদানে,কল্যাণী গো, তোদেরই কল্যাণেছুটিয়া যাক্ কুস্বপন কালো-একটি দীপ উহারে দেওয়া ভালো।
শিউলি-ফোটা ফুরালাে যেইশীতের বনে,এলে যে সেই শূন্য খনে।তাই গােপনে সাজিয়ে ডালাদুখের সুরে বরণমালাগাঁথি মনে মনেশূন্য খনে।
দিনের কোলাহলেঢাকা সে যে রইবে হৃদয়তলে।রাতের তারা উঠবে যবেসুরের মালা বদল হবেতখন তােমার সনেমনে মনে।
হায় হেমন্তলক্ষ্মী, তোমারনয়ন কেন ঢাকা-হিমের ঘন ঘোমটাখানিধুমল রঙে আঁকা।সন্ধ্যাপ্রদীপ তোমার হাতেমলিন হেরি কুয়াশাতে,কণ্ঠে তোমার বাণী যেনকরুণ বাষ্পে মাখা।
ধরার আঁচল ভরে দিলেপ্রচুর সোনার ধানে।দিগঙ্গনার অঙ্গন আজপূর্ণ তোমার দানে।আপন দানের আড়ালেতেরইলে কেন আসন পেতে,আপ্নাকে এই কেমন তোমারগোপন করে রাখা।
Comments
Loading comments…