আম্রবন

বনবাণী — বনবাণী

তব পথচ্ছায়া বাহি বাঁশরিতে যে বাজালো আজিমর্মে তব অশ্রুত রাগিণী,ওগো আম্রবন,তারি স্পর্শে রহি রহি আমারো হৃদয় উঠে বাজি-চিনি তারে কিম্বা নাহি চিনিকে জানে কেমন!অন্তরে অন্তরে তব যে চঞ্চল রসের ব্যগ্রতাআপন অন্তরে তাহা বুঝিওগো আম্রবন!তোমার প্রচ্ছন্ন মন আমারি মতন চাহে কথামঞ্জরীতে মুখরিয়া আনন্দের ঘনগূঢ় ব্যথা-অজানারে খুঁজিআমারি মতন আন্দোলন।

সচকিয়া চিকনিয়া কাঁপে তব কিশলয়রাজিসর্ব অঙ্গে নিমেষে নিমেষেওগো আম্রবন।আমিও তো আপনার বিকশিত কল্পনায় সাজিঅন্তর্লীন আনন্দ-আবেশেঅমনি নূতন।প্রাণে মোর অমনি তো দোলা দেয় সন্ধ্যায় উষায়অদৃশ্যের নিশ্বসিত ধ্বনি,ওগো আম্রবন।আমার যে পুষ্পশোভ সে কেবল বাণীর ভূষায়,নূতন চেতনে চিত্ত আপনারে পরাইতে চায়সুরের গাঁথনি—গীতঝংকারের আবরণ।

যে অজস্রভাষা তব উচ্ছ্বসিয়া উঠেছে কুসুমিভূতলের চিরন্তনী কথা,ওগো আম্রবন,তাই বহে নিয়ে যাও, আকাশের অন্তরঙ্গ তুমি,ধরণীর বিরহবারতাগভীর গোপন।সে ভাষা সহজে মিশে বাতাসের নিশ্বাসে নিশ্বাসে,মৌমাছির গুঞ্জনে গুঞ্জনেওগো আম্রবন।আমার নিভৃত চিত্তে সে ভাষা সহজে চলে আসে,মিশে যায় সংগোপনে অন্তরের আভাসে আশ্বাসে

স্বপনে বেদনে,ধ্যানে মোর করে সঞ্চরণ।

সুদূর জন্মের যেন ভুলে-যাওয়া প্রিয়কণ্ঠস্বরগন্ধে তব রয়েছে সঞ্চিতওগো আম্রবন।যেন নাম ধ’রে কোন্ কানে-কানে গোপন মর্মরতাই মোরে করে রোমাঞ্চিতআজি ক্ষণে ক্ষণ।আমার ভাবনা আজি প্রসারিত তব গন্ধ-সনেজনম-মরণ-পরপার,ওগো আম্রবন,যেথায় অমরাপুরে সুন্দরের দেউলপ্রাঙ্গণেজীবনের নিত্য-আশা সন্ন্যাসিনী, সন্ধ্যারতিক্ষণেদীপ জ্বালি তারপূর্ণেরে করিছে সমর্পণ।

বহুকাল চলিয়াছে বসন্তের রসের সঞ্চারওই তব মজ্জায় মজ্জায়,ওগো আম্রবন।বহুকাল যৌবনের মদোৎফুল্ল পল্লীললনারআকুলিত অলকসজ্জায়জোগালে ভূষণ।শিকড়ের মুষ্টি দিয়া আঁকড়িয়া যে বক্ষ পৃথ্বীরপ্রাণরস কর তুমি পান,

ওগো আম্রবন,সেথা আমি গেঁথে আছি দুদিনের কুটির মৃত্তির-তোমার উৎসবে আমি আজি গাব এক রজনীরপথ-চলা গান,কালি তার হবে সমাপন।

Comments

Loading comments…