কুটিরবাসী

বনবাণী — বনবাণী

তোমার কুটিরেরসমুখবাটেপল্লীরমণীরাচলেছে হাটে।উড়েছে রাঙা ধূলি,উঠেছে হাসি-উদাসী বিবাগীরচলার বাঁশিআঁধারে আলোকেতেসকালে সাঁঝেপথের বাতাসেরবুকেতে বাজে।

যা-কিছু আসে যায়মাটির ’পরেপরশ লাগে তারিতোমার ঘরে।

ঘাসের কাঁপা লাগে,পাতার দোলা,শরতে কাশবনেতুফান-তোলা,প্রভাতে মধুপেরগুন্‌গুনানি,নিশীথে ঝিঁঝিরবেজাল-বুনানি।

দেখেছি ভোরবেলাফিরিছ একা,পথের ধারে পাওকিসের দেখা।সহজে সুখী তুমিজানে তা কেবা-ফুলের গাছে তবস্নেহের সেবা।এ কথা কারো মনেরবে কি কালি,মাটির ’পরে গেলেহৃদয় ঢালি।

দিনের পরে দিনযে দান আনেতোমার মন তারেদেখিতে জানে।

নম্র তুমি, তাইসরলচিতেসবার কাছে কিছুপেরেছ নিতে,উচ্চ-পানে সদামেলিয়া আঁখিনিজেরে পলে পলেদাও নি ফাঁকি।

চাও নি জিনে নিতেহৃদয় কারো,নিজের মন তাইদিতে যে পারো।তোমার ঘরে আসেপথিকজন—চাহে না জ্ঞান তারা,চাহে না ধন,এটুকু বুঝে যায়কেমনধারাতোমারি আসনেরশরিক তারা।

তোমার কুটিরেরপুকুরপাড়েফুলের চারাগুলিযতনে বাড়ে।

তোমারো কথা নাই,তারাও বোবা,কোমল কিশলয়েসরল শোভা।শ্রদ্ধা দাও তবুমুখ না খোলে,সহজে বোঝা যায়নীরব ব’লে।

তোমারি মতো তবকুটিরখানি,স্নিগ্ধ ছায়া তারবলে না বাণী।তাহার শিয়রেতেতালের গাছেবিরল পাতাক’টিআলোয় নাচে।সমুখে খোলা মাঠকরিছে ধূ ধূ,দাঁড়ায়ে দূরে দূরেখেজুর শুধু।

তোমার বাসাখানিআঁটিয়া মুঠিচাহে না আঁকড়িতেকালের ঝুঁটি।

দেখি যে পথিকেরমতোই তাকে,থাকা ও না-থাকারসীমায় থাকে।ফুলের মতো ও যে,পাতার মতো-যখন যাবে, রেখেযাবে না ক্ষত।

নাইকো রেষারেষিপথে ও ঘরে,তাহারা মেশামেশিসহজে করে।কীর্তিজালে-ঘেরাআমি তো ভাবি,তোমার ঘরে ছিলআমারো দাবি-হারায়ে ফেলেছি সেঘুর্ণিবায়েঅনেক কাজে আরঅনেক দায়ে।

Comments

Loading comments…