নারিকেল

বনবাণী — বনবাণী

সমুদ্রের কূল হতে বহুদূরে শব্দহীন মাঠেনিঃসঙ্গ প্রবাস তব, নারিকেল- দিনরাত্রি কাটেযে প্রচ্ছন্ন আকাঙ্ক্ষায় বুঝিতে পার না তাহা নিজে।দিগন্তেরে অতিক্রমি দেখিতে চাহিছ তুমি কী-যেদীর্ঘ করি দেহ তব, মজ্জায় রয়েছে তার স্মৃতিগূঢ় হয়ে। মাটির গভীরে যে রস খুঁজিছ নিতিকী স্বাদ পাও না তাহে, অন্নে তার কী অভাব আছেতাই তো শিকড় উপবাসী, কাঁদে ধরণীর কাছে।আকাশে রয়েছ চেয়ে রাত্রিদিন কিসের প্রত্যাশেবাক্যহারা! বারবার শূন্য হতে ফিরে ফিরে আসেতোমারি সন্ধানরূপী সন্ধ্যাবেলাকার শ্রান্ত পাখিলম্বিত শাখায় তব।

ওই শুন, উঠিয়াছে ডাকিবসন্তের প্রথম কোকিল। সে বাণী কি এল প্রাণেদক্ষিণপবন হতে, যে বাণী সমুদ্র শুধু জানে—পৃথিবীর কুলে কুলে যে বাণী গম্ভীর আন্দোলনেবধির মাটির সুপ্তি কাঁপায়ে তুলিছে প্রতি ক্ষণেঅশান্ততরঙ্গমন্দ্রে, দক্ষিণসাগর হতে একিতাণ্ডবনৃত্যের স্পর্শ শাখার হিল্লোলে তব দেখিমুহুর্মুহু চঞ্চলিত।

রুদ্রডমরুর জাগরণীপল্লবমর্মরে তব পেয়েছে কি ক্ষীণ প্রতিধ্বনি।কান পেতে ছিলে তুমি- হে বিরহী, বসন্তে কি আজি

সুদূরবন্ধুর বার্তা অন্তরে উঠিল তব বাজি—যে বন্ধুর মহাগানে একদিন সূর্যের আলোতেরোমাঞ্চিয়া বাহিরিলে প্রাণযাত্রী, অন্ধকার হতে?আজি কি পেয়েছ ফিরে প্রাণের পরশহর্ষ সেইযুগারম্ভ প্রভাতের আদি-উৎসবের নিমেষেইঅবসাদ দূরে গেল, জীবনের বিজয়পতাকাআবার চঞ্চল হল নীলাম্বরে, খুলে গেল ঢাকা,খুঁজে পেলে যে আশ্বাস অন্তরে কহিছে রাত্রিদিন—‘প্রাণতীর্থে চলো, মৃত্যু করো জয়, শ্রান্তিক্লান্তিহীন।’

Comments

Loading comments…