দ্বাবিংশ সর্গ

ভগ্নহৃদয়

তুই রে বসন্ত সমীরণ,তোর নহে সুখের জীবন।কিবা দিবা কিবা রাতি, পরিমল মদে মাতিকাননে করিস্ বিচরণ,নদীরে জাগায়ে দিস্‌, লতারে গায়ে দিস্‌চুপি চুপি করিয়া চুম্বন!তোর নহে সুখের জীবন।যেথা দিয়া তুই যাস্‌, পদতলে চারি পাশফুলেরা খুলিয়া দেয় প্রাণ,বুকের উপর দিয়া যাস্‌ তুই মাড়াইয়াকিছু না করিস্ অবধান।শুনিতে মুখের কথা আকুল হইয়া লতাকত তোরে সাধাসাধি করে,দুটা কথা শুনিলি বা, দুটা কথা বলিলি বা,চোলে যাস্‌ দূর দূরান্তরে!পাখীরা খুলিয়া প্রাণ করে তোর গুণ গান,চারি দিকে উঠে প্রতিধ্বনি;বকুলের বালিকারা হইয়া আপনা-হারাঝরি পড়ে সুখেতে অমনি!

তবুরে বসন্ত সমীরণ,তোর নহে সুখের জীবন!আছে যশ, আছে মান, আছে শত মন প্রাণ,শুধু এ সংসারে তোর নাইএক তিল দাঁড়াবার ঠাঁই!তাইরে জোছনা রাতে অথবা বসন্ত প্রাতেগাস্ যবে উল্লাসের গান,সে রাগিণী মনোমাঝে বিষাদের সুরে বাজে,হাহাকার করে তাহে প্রাণ!শোন্ বলি বসন্তের বায়,হৃদয়ের লতাকুঞ্জে আয়,শ্যামল বাহুর ডোরে বাঁধিয়া রাখিব তোরেছোট সেই কুঞ্জটির ছায়!তুই সেথা র’স্ যদি, তবে সেথা নিরবধিমধুর বসন্ত জেগে রবে,প্রতি দিন শত শত নব নব ফুল যতফুটিবেক, তোরি সব হবে।তোরি নাম ডাকি ডাকি একটি গাহিবে পাখী,বাহিরে যাবে না তার স্বর!সে কুঞ্জেতে অতি মৃদু মাণিক ফুটাবে শুধুবাহিরের মধ্যাহ্নের কর।নিভৃত নিকুঞ্জ ছায় হেলিয়া ফুলের গায়,শুনিয়া পাখীর মৃদু গান,লতার হৃদয়ে হারা সুখে অচেতন পারা

ঘুমায়ে কাটায়ে দিবি প্রাণ;তাই বলি বসন্তের বায়হৃদয়ের লতাকুঞ্জে আয়!অতৃপ্ত মনের আশ লুটিয়া সুখের রাশ,কেনরে করিস্ হায় হায়!

Comments

Loading comments…