সপ্তদশ সর্গ
ভগ্নহৃদয়
যার কেহ নাই তার সব আছে,সমস্ত জগৎ মুক্ত তার কাছে;তারি তরে উঠে রবি শশি তারাতারি তরে ফুটে কুসুম গাছে।একটি যাহার নাইক আলয়সমস্ত জগৎ তাহারি ঘর,একটি যাহার নাই সখা সখিকেহই তাহার নহেক পর!আর কি সে চায়? রয়েছে যখনআপনি সে আপনার,কিসের ভাবনা তার?কিন্তু যে জনের প্রাণের মনেরএকজন শুধু আছে,রবিশশি তার সেই এক জন,সেই তার প্রাণ, সেই তার মন,সেই সে জগৎ তাহার কাছে,জগৎ সে জন-ময়,
আর কেহ কেহ নয়;পৃথিবীর লোক সেই এক জন;যদি সে হারায় তা’কেআর তার তরে রবি নাহি উঠে,আর তার তরে ফুল নাহি ফুটে,কিছু তার নাহি থাকে!বহিছে তটিনী বহিছে তটিনীতটিনী বহিছে না,গাহিছে বিহগ গাহিছে বিহগবিহগ গাহিছে না।সমস্ত জগৎ গেছে ধ্বংশ হোয়েনিভেছে তপন শশি,সারা জগতের শ্মশান মাঝারেসে শুধু একেলা বসি।কি একটি বালু-কণার উপরেতাহার সমস্ত জগৎ ছিল!নিশ্বাস লাগিতে খসিল বালুকা,নিমেষে জগৎ মিশায়ে গেল!হা রে হা অবোধ, জীবন লইয়াহেন ছেলে খেলা করিতে আছে,ক্ষণস্থায়ী ওই তিলেকের পরেসমস্ত জগৎ গড়িতে আছে,মুহূর্ত কালের ক্ষীণ মুষ্টি মাঝেতোর চিরকাল রাখিতে আছে?
রাখ্রে ছড়ায়ে হৃদয়টি তোরসমস্ত জগৎময়!জগৎ সাগরে বিম্ব যত আছেকেহই কাহারো নয়!সে বিম্বের পরে রাখিস্নে তুইকোন আশা,মন মোর!সহসা দেখিবি বিম্বটির সাথেভেঙ্গেছে সর্ব্বস্ব তোর।ওরে মন, তোর অগাধ বাসনাসমস্ত জগৎ করুক গ্রাস!সমস্ত জগৎ ঘেরিয়া রাখ্রেহৃদয়রে, তোর সুখের আশ।সন্ন্যাসিনী তুই, কঁদিস্রে কেন?কেন রে ফেলি দুখের শ্বাস?গেছে ভেঙ্গে তোর একটি জগৎআরেক জগতে করিবি বাস।সে জগৎ তোর তরে হয়নি রেঅদৃষ্টের ভুলে গেছিলি সেথা,সেথায় আলয় খুঁজিয়া খুঁজিয়াকতই না তুই পাইলি ব্যথা!তোর নিজ দেশে এসেছিস্ এবেকেহ নাই তোরে কহিতে কথা,আদর কাহারো পাস্নে কখনো,আদর কাহারো চাস্নে হেথা।
এখনো ত এই নূতন জীবনেসুখ দুখ কিছু ঘটেনি তোর—দিবসের পরে আসিছে দিবসরজনীর পরে রজনী ভোর!দিবস রজনী নীরব চরণেযেমন যেতেছে তেমনি যাক্—কাঁদিস্নে তুই, হাসিস্নে তুইযেমন আছিস্ তেমনি থাক্।সে জগতে ছিল কাহারো বা দুখকারো বা সুখের রাশি—এ জগতে যত নিবাসী জনেরনাহিক রোদন হাসি!—সকলেই চায় সকলের মুখেশুধায় না কেহ কথা—নাইক আলয়, চোলেছে সকলেমন যার যায় যেথা!
Comments
Loading comments…