পরিচয়
সেঁজুতি
একদিন তরীখানা থেমেছিল এই ঘাটে লেগে,বসন্তের নূতন হাওয়ার বেগে।তোমরা সুধায়েছিলে মোরে ডাকি’পরিচয় কোনো আছে না কি,যাবে কোন্খানে।আমি শুধু বলেছি, কে জানে।
নদীতে লাগিল দোলা, বাঁধনে পড়িল টানএকা বসে গাহিলাম যৌবনের বেদনার গান।সেই গান শুনি’কুসুমিত তরুতলে তরুণ তরুণীতুলিল অশোক,মোর হাতে দিয়ে তা’রা কহিল, এ আমাদেরি লোক।
আর কিছু নয়,সে মোর প্রথম পরিচয়।
তারপরে জোয়ারের বেলাসাঙ্গ হোলো, সাঙ্গ হোলো তরঙ্গের খেলা,কোকিলের ক্লান্ত গানেবিস্মৃত দিনের কথা অকস্মাৎ যেন মনে আনেকনকচাঁপার দল পড়ে ঝুরে,ভেসে যায় দূরে,—ফাল্গুনের উৎসব রাতিরনিমন্ত্রণ লিখন পাঁতিরছিন্ন অংশ তা’রা।অর্থহারা।
ভাঁটার গভীর টানেতরীখানা ভেসে যায় সমুদ্রের পানে।নূতন কালের নব যাত্রী ছেলেমেয়েসুধাইছে দূর হতে চেয়েসন্ধ্যায় তারার দিকেবহিয়া চলেছে তরণী কে।
সেতারেতে বাঁধিলাম তার,গাহিলাম আরবার-
–মোর নাম এই ব’লে খ্যাত হোক,—আমি তোমাদেরি লোক।—আর কিছু নয়-এই হোক শেষ পরিচয়॥
Comments
Loading comments…