প্রথম খণ্ড — পঞ্চম পরিচ্ছেদ

“মথুরাবাসিনি, মধুর হাসিনি,শ্যামবিলাসিনি—রে!”

“কহলো নাগরি, গেহ পরিহরি,কাহে বিবাসিনী—রে।”

“বৃন্দাবনধন, গোপিনীমোহন,কাহে তু তেয়াগী,—রেদেশ দেশ পর, সো শ্যামসুন্দর,ফিরে তুয়া লাগি—রে।”

“বিকচনলিনে, যমুনা পুলিনে,বহুত পিয়াসা—রে।চন্দ্রমাশালিনী, যা মধুযামিনী,না মিটল আশা—রে॥সা নিশা সমরি—”

“সা নিশা সমরি, কহলো সুন্দরি,কাঁহা মিলে দেখা—রে।শুনি যাওয়ে চলি, বাজয়ি মুরলী,বনে বনে একা—রে।”

“মথুরাবাসিনী, মধুরহাসিনী, শ্যামবিলাসিনী,—রে।কহলো নাগরি, গেহ পরিহরি, কাহে বিবাসিনী—রে॥বৃন্দাবনধন, গোপিনীমোহন, কাহে তু তেয়াগী—রে॥দেশ দেশ পর, সো শ্যামসুন্দর, ফিরে তুয়া লাগি—রে॥বিকচ নলিনে, যমুনা পুলিনে, বহুতপিয়াসা—রে॥চন্দ্রমাশালিনী, যা মধুযামিনী, না মিটল আশা—রে॥সা নিশা সমরি, কহলো সুন্দরি, কাঁহা মিলে দেখা—রে॥শুনি, যাওয়ে চলি, বাজায়ি মুরলী, বনে বনে একা—রে।”

“যমুনার জলে মোরে, কি নিধি মিলিল।ঝাঁপ দিয়া পশি জলে, যতনে তুলিয়া গলে,পরেছিনু কুতূহলে, যে রতনে।নিদ্রার আবেশে মোর, গৃহেতে পশিল চোর,কণ্ঠের কাটিল ডোর, মণি হরে নিল।

“ঘাট বাট তট মাট ফিরি, ফিরনু বহু দেশ।কঁহা মেরে কান্ত বরণ, কাঁহা রাজবেশ।হিয়াপর রোপনু পঙ্কজ, কৈনু যতন ভারি।সোহি পঙ্কজ কাঁহা মোর, কাঁহা মৃণাল হামারি॥”

“কণ্টকে গঠিল বিধি, মৃণাল অধমে।জলে তারে ডুবাইল পীড়িয়া মরমে॥

“রাজহংস দেখি এক নয়নরঞ্জন।চরণে বেড়িয়া তারে, করিল বন্ধন॥বলে হংসরাজ কোথা করিবে গমন।হৃদয় কমলে মোর, তোমার আসন॥আসিয়া বসিল হংস হৃদয় কমলে।কাঁপিল কণ্টক সহ মৃণালিনী জলে॥হেন কালে কাল মেঘ, উদিল আকাশে।উড়িল মরালরাজ, মানস বিলাসে॥ভাঙ্গিল হৃদয়পদ্ম, তার বেগভরে।ডুবিয়া অতল জলে, মৃণালিনী মরে॥”

সই মনের কথা সই, সই মনের কথা সই।কাণে কাণে কি কথাটি বলে দিলি ওই॥সই ফিরে কনা সই, সই ফিরে কনা সই।সই কথা কোস্ কথা কব, নইলে কারো নই।”

Comments

Loading comments…